শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০৫ অপরাহ্ন




আম রফতানি কমেছে

চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দেশের বাইরে আম রফতানি কমেছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ টন আম বিদেশে রফতানি হয়েছে। আর রফতানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে আরও ৬০ হাজার টন আম।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে বিষমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১০ কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষক ফ্রুট ব্যাগিংসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করলেও আম রফতানি আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ তারা। কৃষকদের দাবি, আম উৎপাদন তো বাড়েনি, বরং গত তিন বছরে আম রফতানি কমেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জেলার সাত কৃষকের মাধ্যমে ১০৪ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক কৃষকের মাধ্যমে পৌনে তিন টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০ জন কৃষকের মাধ্যমে ৩৩ টন এবং চলতি বছর মাত্র পাঁচ টন আম বিদেশে রফতানি হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এবার প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে হচ্ছে আম চাষ। কয়েক বছর আগেও আমের মাছি-পোকা বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আক্রমণ রোধে ভালো-মন্দ বিচার না করেই চাষিরা মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতেন। এতে করে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি আমের উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলছিল। এ অবস্থায় মাছি-পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় পাঁচ বছর আগে নতুন প্রযুক্তি ফ্রুট ব্যাগিং নিয়ে কাজ শুরু করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

ফল বিজ্ঞানী ড. সরফ উদ্দিন জানান, রোগবালাই ও পোকার সংক্রমণ থেকে আম রক্ষায় পাঁচ বছর আগে থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বিষমুক্ত আম উৎপাদন হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোয় আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যাগিং করা ল্যাংড়া, খিরসাপাত, বারি আম-২, বারি আম-৩, ফজলি ও আশ্বিনা জাতের দেড়শ’ টন আম ইংল্যান্ডে পাঠায়। কিন্তু গত বছর নানা জটিলতার কারণে আম বিদেশে রফতানি হয়নি। অথচ এ রফতানির আশায় নিরাপদ আম উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন চাষিরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর ১০ কোটির বেশি আমে ব্যাগিং করা হয়েছে, যা থেকে উৎপাদন হবে ৬০ হাজার টন বিষমুক্ত আম। শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি, চককীর্ত্তি, কানসাট, ধাইনগর এলাকায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আম বেশি।

চককীর্ত্তির চাষি কবির হোসেন জানান, তিনি এ বছর ২৫ হাজার আম ব্যাগিং করেছেন। কিন্তু এখনও রফতানির অর্ডার না পাওয়ায় হতাশ। বিদেশে রফতানির সব শর্ত পূরণ করতে গিয়ে তার উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এতে গত বছরের মতো লোকসান করেই স্থানীয় বাজারে তাকে এসব আম বিক্রি করতে হবে।

শিবগঞ্জের বিশ্বনাথপুরের চাষি আ. আওয়াল জানান, কন্টাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে যে আম রফতানির নিয়ম প্রচলিত আছে, তা নিরাপদ আম উৎপাদনকারী ও রফতানি আদেশকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লিখিত একটা সাদা কাগজের চুক্তি। যার কোনো জবাবদিহি না থাকায় রফতানির আদেশদাতারা ইচ্ছা করলেই আদেশ বাতিল করতে পারে। এতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শিবগঞ্জ পৌর এলাকার চাষি ইসমাঈল হোসেন শামিম জানান, ২০১৫ সালে ব্যক্তি পর্যায়ে প্রথম তিনি আম রফতানির পর আশা করেছিলেন রফতানি বাড়বে। কিন্তু নিরাপদ আম রফতানির কোনো নীতিমালা না থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অপর চাষি ফজলুল হক জানান, গত দুই বছর তিনি আম রফতানি আদেশ পেলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো আদেশ পাননি।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম আমিনুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে পাঁচ টন আম ইউরোপে রফতানি হয়েছে। স্থানীয় বাজারেই ব্যাগিং করা আমের দাম কড়া হওয়ায় আমদানিকারকরা কিছুটা হতাশ। এ কারণে রফতানিতে একটু ধীরগতি।

বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবছরই বিষমুক্ত রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন বাড়ছে; কিন্তু রফতানি বাড়ছে না। এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ




© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765