মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৯:০৪ অপরাহ্ন




ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়া সেই মেয়র পুত্র ফের কারাগারে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯

শরীয়তপুরের চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় জাজিরার মেয়র পুত্র মাসুদ বেপারীর অন্তরবর্তীকালিন জামিন বাতিল করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার তার জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বিচারক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।

এর আগে মামলা দায়েরের মাত্র ৮ দিনের মাথায় গত ৮ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালত মাসুদকে অন্তরবর্তীকালিন জামিন দিয়েছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার মাসুদ আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় নির্যাতিতা ওই ছাত্রী ও তার বাবা-মা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ওই কলেজছাত্রী বলেন, মাসুদ আমার আত্মীয়। তারপরও আমাকে ধর্ষণ করতে পিছপা হয়নি। আমি তার পায়ে ধরে কেঁদেছি, তারপরও রেহাই পাইনি। মাসুদ মুক্ত হয়ার পর চাপে ছিলাম। তা‌কে আবার কারাগা‌রে পাঠানো হয়েছে শুনলাম। আমি দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তি হি‌সে‌বে ওর ফাঁসি চাই।

আসামি মাসুদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান নজরুল বলেন, গত ৮ ই জুলাই আদালতের নিকট আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করি। মাসুদের স্ত্রী ও শিশু সন্তান অসুস্থ হওয়ার কারণে ৩ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন আদালত। তিনদিন পর মাসুদের জামিন নামঞ্জুর করে দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে আসামিকে জামিন দেয়ার বিরোধীতা করা হয়েছিলো। গত ৮ জুলাই তিনদিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে ১১ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। শুনানির দিন মাসুদের পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজ নামঞ্জুর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন বিকেলে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ বেপারীর বিবাহিত পুত্র মাসুদ বেপারী তার দু:সম্পর্কের আত্মীয়া হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষকের এক কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় নিজের বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে মেয়েটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। বিষয়টি রাত ১০টার দিকে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে পারলে মাসুদ বেপারীকে ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে আটক করা হয়। পরে ৩০ জুন ওই মেয়েটি ও তার বাবা জাজিরা থানায় হাজির হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। এরপর ১ জুলাই মাসুদকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি তিনদিনের অন্তরবর্তীকালিন জামিন পান।

Print Friendly, PDF & Email




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ













© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765