বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৭ অপরাহ্ন




চিতলমারীতে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে দেড় মাস ধরে ২০ পরিবার পুরুষ শূণ্য

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
  • প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০১৯

সন্ত্রাসীদের তান্ডবে বাগেরহাটের চিতলমারীতে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে ২০ টি পরিবারে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে। রাতে পুলিশ প্রহরায় নারী ও শিশুদের বসবাস করতে হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়–য়া ওই পরিবারের শিক্ষাথীদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তাদের প্রতিটি মুহুর্ত কাটছে আতংকে। এ সুযোগে ওই সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, লুটপাট ও চিংড়ি ঘের লুট করছে। আর এ সবের প্রকাশ্যে মদদ দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদার ও তার ভাইপো ইব্রাহীম হাওলাদার। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় এ সকল অভিযোগ তুলে ধরে ও প্রতিকার চেয়ে চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সদর ইউনিয়নের খিলিগাতী গ্রামের শওকাত ফকিরের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করে তিনি জানান, তার ¯^ামীর সাথে দেড় মাস আগে পাওনা টাকা নিয়ে একই গ্রামের ইব্রাহীম হাওলাদার-রবিউল হাওলাদারদের সাথে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ঘটনার পরে রুবেল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি মারা গেলে ভয়ে তাদের আত্মতীয়-¯^জনসহ ২০ টি পরিবার পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার প্রভাবশালী ও সদর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওরফে ওসমান হাওলাদারের নের্তৃত্বে ইব্রাহীম হাওলাদার, পরশ হাওলাদার, হৃদয় হাওলাদার, রবিউল হাওলাদার, ইমরান, সিরাজ হাওলাদার, আলম শেখ, রিপন খাঁসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী তাদের বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও পরিবারে মহিলা সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। এ ছাড়াও সন্ত্রাসীরা তার ¯^ামী, দেবর, ভাসুরের প্রায় ২০ টি চিংড়ি ঘের থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ লুট করেছে। সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের ভয়ে তাদের বংশের ছেলে-মেয়েরা দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজেও যেতে পারছেনা। এ হামলাকারীরা দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় অবাধে সন্ত্রালী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা ও চরমপন্থী দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় কেউই তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।
ইয়াসমিন বেগম আরও বলেন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ২০০৫ সালে জনতার গণপিটুনিতে ইমরান ও সিরাজ হাওলাদারের ভাই টাইগার হাওলাদার নিহত হয়। টাইগার নিহত হওয়ার পরে রায়গ্রাম, খিলিগাতী, খড়িয়া-আড়–লিয়া, চিতলমারী সদর ও বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংগা এলাকায় এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রায় ১৫ জন সদস্য বিভিন্ন সময় জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীরা সাময়িক সময়ের জন্য গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে তারা লুৎফর হাওলাদারের নেতৃত্ব এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
এ ব্যপারে সব অভিযোগ অ¯^ীকার করে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওসমান হাওলাদার মুঠোফোনে জানান, সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। রুবেল হাওলাদার হত্যা মামলা হতে মুক্তি পেতে ওরা নানা তালবাহানা করছে।
তবে ডুমুরিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (টুআইসি) প্রভাষ সরকার জানান, যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বর্তমানে খিলিগাতী ও ডুমুরিয়া বাজারে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765