জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে সোমবার অস্বস্তিতে পড়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার। জেনেভায় ওই বৈঠকের শুরুতেই কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে প্রশ্নের মুখে ফেলে সংস্থাটির কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। এ ছাড়া আসামের নাগরিক তালিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তান ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে বলে আশঙ্কা ছিল দিল্লির। সোমবার পরিস্থিতি অনেকটা সে দিকেই গড়ায়। মানবাধিকার কমিশনার মিশেল নিজেই কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় ইসলামাবাদ কিছুটা সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকেরা।
মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪২তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে মিশেল বলেন, ‘‘আমরা কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখার দু’দিকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পাচ্ছি। সম্প্রতি ভারত সরকার কাশ্মীরে ইন্টারনেট যোগাযোগ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত ও পাকিস্তান সরকারকে কাশ্মীরিদের মানবাধিকার রক্ষার আরজি জানিয়েছি আমরা। এখন বিশেষত ভারতের কথাই বলতে চাই। আমার অনুরোধ, কাশ্মীরে কারফিউ তুলে নিক দিল্লি। মানুষকে ন্যূনতম সেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলতে হবে।’’
মিশেল বলেন, ‘‘কাশ্মীর নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের শামিল করতে হবে।’’
কাশ্মীরের পাশাপাশি আসামের নাগরিক তালিকা বা এনআরসি প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিশেল। তিনি বলেন, ‘‘এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ফলে প্রবল উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।’’
এদিকে সাউথ ব্লক সূত্র পত্রিকাটিকে জানায়, মানবাধিকার কাউন্সিলে দুটি পদক্ষেপ নিতে পারে পাকিস্তান। তারা কাউন্সিলের প্রধানের কাছে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা চাইতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট স্থির করবেন ওই আলোচনা হবে কি না। তা না হলে কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাশ করাতে চাইবে। এ ক্ষেত্রেও ভোটাভুটি হবে।
আরও বলা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে কাউন্সিলের ৪৭টি সদস্য-দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই দেশগুলোকে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পরে এখনো পর্যন্ত প্রাণহানি বা সংঘাত হয়নি।
এদিকে জেনেভায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও ভারত পাঠাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) বিজয় সিং ঠাকুরকে। এর মাধ্যমে তারা পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বকে ছোট করে দেখাতে চায়।