শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
রামপালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বসতবাড়িতে ঢুকে গাছপালা কর্তনের অভিযোগ বা‌গেরহা‌টে কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত বাগেরহাটে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচির উপকারভোগীদের প্রশিক্ষন শুরু দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে – শেখ তন্ময় এমপি চিতলমারীতে বিক্ষোভকারীদের ইটের আঘাতে কৃষকলীগ নেতা আহত বা‌গেরহা‌টে জেলা প্রশাস‌নের সা‌থে সরকারী বিদ‌্যাল‌য়ের অ‌ভিভাবক‌দের মত‌বি‌নিময় বাগেরহাট সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক পরিষদের কমিটি গঠন বাগেরহাটে পরিবার পরিকল্পনা সেবার মান উন্নয়নে ওয়ার্কিং কমিটির সভা বাগেরহাটে মহানবী (সাঃ)কে কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ




সুন্দরবনে ১৬ মাসে কোস্টগার্ড বাহিনীর অভিযানে ৬৩ ডাকাত আটক

মোংলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯

সুন্দরবনে জলদস্যুতা নির্মূলে উপকূল রক্ষী বাহিনী কোস্টগার্ড অগ্রনী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সুন্দরবনে বড় কোন দস্যু বাহিনীর তৎপরতা এখন আর নেই তবে ৫-৬ জন মিলে ছোট ছোট দস্যু দল গঠন করে জেলেদের অপহরন করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও শোনা যায় মাঝে মাঝে।

বনের ভেতর শত শত সরু খালে এখন ছোট ছোট দস্যুবাহিনীর নিরাপদ  আবাস। যে ডিঙি নৌকা নিয়ে তারা ডাকাতি করে, সেই নৌকাতেই তাদের বাস। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত থাকে এই জলদস্যুরা। একেক গ্রুপে ৫-৬ সদস্য রয়েছে। সরু খালের মধ্যে ডিঙি নৌকাতে ঘাপটি মেরে থাকে তারা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছাতে পারে না।প্রতিনিয়ত এসব জলদস্যুর আতঙ্কে থাকে জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালিরা। তবে অনেক জেলে দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে জলদস্যুদের নানা তথ্য।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপকূল রক্ষী বাহিনী কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মোট ৬৩ ডাকাত গ্রেফতার করেছে।কোস্টগার্ড বাহিনীর সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম  বলেন, ‘দস্যুরা জেলেদের ছদ্মবেশে বের হয়। এজন্য তাদের শনাক্ত করা কঠিন। তারা বনের গহিনে সরু খালের মধ্যে অবস্থান করে। অনেক সময় কোস্টগার্ড বাহিনীর স্পিডবোর্ড সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। কোস্টগার্ড সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক সময় গভীর বনে তাদের আস্তানায় পৌঁছলেও তারা দ্রুত সটকে পড়ে। তবে মাঝেমধ্যে দস্যুরা গ্রেপ্তারও হয়।’তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি সুন্দরবনে জলদস্যুতা, বনদস্যুতা ও ডাকাতি দমনে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কোস্টগার্ড বাহিনীর সদস্য সংখ্যা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এত বৃহৎ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কোস্টগার্ড সদস্য খুবই কম। জনবল বৃদ্ধি পেলে দস্যুদের দমন করা সহজ হবে।’ কোস্টগার্ড সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অভিযানে মোট ৬৩ ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৮ রাউন্ড গুলি ও ৩ রাউন্ড ব্লাঙ্ক গোলা।


কোস্টগার্ড বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বড় কোনো গ্যাং না থাকলেও ছোট ছোট অসংখ্য বাহিনী রয়েছে। একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে গড়ে ওঠে জলদস্যুর একটি বাহিনী। এরা নৌকার জেলেদের ধরে মুক্তিপণ দাবি করে। ক্ষেত্র বিশেষ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করে। কখনো কখনো নৌকার মাছ ও খাবার ছিনিয়ে নেয়। এমন অসংখ্য ছোট ছোট বাহিনী রয়েছে জলদস্যুদের। একসময় সুন্দর বনের আতঙ্ক ছিল জিয়া বাহিনী। তবে বছর তিনেক আগে সে মারা যাওয়ার পর এখন বড় কোনো বাহিনী আর নেই।
তিনি জানান, মাঝিরা যেখানে মাছ ধরতে যায়, মৌয়ালরা যেখানে মধু সংগ্রহ করতে যায়, সেই স্থানগুলোই থাকে জলদস্যুদের প্রধান টার্গেট। সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, ছোট কলাগাছিয়া, বড় কলাগাছিয়া,শ্যামনগর; খুলনার নলিয়ান, দাকোপ, মাতারবাড়ী; বাগেরহাটের নন্দবালা,কটকা, বরগুনার পাথরঘাটার চরডুয়ানি এলাকাতে জলদস্যুদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ভোরে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার পদ্মা মাঝের চরে বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলের চর এলাকায় কোস্টগার্ডের ডাকাতবিরোধী অভিযানে পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি সিঙ্গেল শুটার পিস্তল ও ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের গভীরে সোনাইমুখী খাল সংলগ্ন এলাকায় ডাকাত দল আছাবুর বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধে আছাবুর বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ পাথরঘাটা থানার চরদোয়ানী এলাকায় নবগঠিত জাকির বাহিনীর গুলির আঘাতে মো. আলাউদ্দিন নামে এক নিরীহ মাঝি মারা যান। সেই সূত্র ধরে কোস্টগার্ড বাহিনী গোপনে তথ্য অনুসন্ধান করে জানতে পারে, পাথরঘাটা থানার পদ্মা মাঝের চরের দুর্গম এলাকায় জাকির বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রসহ আশ্রয় নিয়েছে। ওই অপারেশন পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে লে. কমান্ডার এম হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং পাথরঘাটা কোস্টগার্ড বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হলে প্রাকৃতিক দুর্গম পরিবেশের কারণে কোস্টগার্ড বাহিনীর উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাতদল দ্রুত বনের ভেতর পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।তবে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাসমূহে বনদস্যু জলদস্যুদের অপতৎপরতা রোধে কোস্টগার্ড সদস্যরা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছে কোস্টগার্ড বাহিনী।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765