চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র টেস্টে দারুণ এক দিন কাটায় আফগানিস্তান। প্রথম দিন ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান তোলে তারা। ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশ আবার তাদের তিন উইকেট তুলে নেয়। তবে রশিদ খানের ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে আফগানিস্তান। টেস্টে যে কোন ইনিংসে আফগানদের এটি সর্বোচ্চ ইনিংস।
এর আগে আফগানিস্তান তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় টেস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩১৪ রান তোলে। তবে প্রথম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১০৩ ও ১০৯ রানে অলআউট হয় আফগানরা। স্পিন উইকেটে প্রথম ইনিংস থেকে বড় সংগ্রহ পেয়ে গেছে আফগানরা। তবে দ্বিতীয় দিনের শুরুটা খারাপ যায়নি বাংলাদেশেরও। তাদের শেষ ৫ উইকেট ৭১ রানে তুলে নিয়েছেন তাইজুল-সাকিবরা।
আফগানিস্তানের হয়ে লেগে ব্যাট করা অধিনায়ক রশিদ খান ৫১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন। আগের দিন ৮৮ রানে অপরাজিত থাকা সাবেক আফগান অধিনায়ক আসগর আফগান ৯২ রান করে আউট হয়ে যায়। আফসার জাজাই ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় দিন যোগ করতে পারেন ৬ রান। দু’জনই তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন।
এর আগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে টস জিতে ব্যাটিং নেয় আফগানরা। কিন্তু তাইজুলের ঘূর্ণিতে তারা শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি। দলের ১৯ ও ৪৮ রানে দুই উইকেট হারায় সফরকারীরা। দুই ওপেনার এহসানউল্লাহ জানাত (৯ রান) ও ইব্রাহিম জাদরান (২১ রান) ফিরে যান তাইজুলের ঘূর্ণিতে। এরপর সাজঘরে ফেরেন হাসমতউল্লাহ শাহেদিও। লাঞ্চের পরে আসগর আফগানকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন রহমত শাহ।
দলের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সামান্য বৃষ্টির সুবিধা দুর্দান্তভাবে কাজে লাগান। কোন ঝুঁকি ছাড়াই এগিয়ে যান তারা। দু’জনে যোগ করেন ১২০ রান। রহমত শাহ আফগানিস্তানের হয়ে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি করে ১০২ রানে ফেরেন। একই ওভারে সাবেক আফগান ওয়ানডে অধিনায়ক মোহাম্মদ নবীবে শূন্য রানে বোল্ড করেন স্পিনার নাঈম হাসান। ১৯৭ রানে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ। এরপর ৭৪ রানের জুটি গড়ে আসগর আফগান ও আফসার প্রথম দিন শেষ করেন।