শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
পরীক্ষায় ভেজাল ও মানহীন প্রমাণিত : বাগেরহাটে এডভানটা কোম্পানির সার বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী কায়রুজ্জামান শিপনের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তি পাননি, কারাফটকে দেখলেন স্ত্রী-সন্তানের মুখ বাগেরহাটে ছাত্রলীগ সভাপতির সন্তানকে হত্যার পর স্ত্রীর আত্মহত্যা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন শেখ মনজুরুল হক রাহাদ এই জনপদের উন্নয়নে একাধিক এজেন্ডা ঘোষণা করেছি -ব্যারিস্টার জাকির বাগেরহাটে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিমের মতবিনিময় বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে —ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বাগেরহাটের তিন আসনেই ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়বেন সাবেক এমপি এমএএইচ সেলিম মোংলায় যৌথ অভিযানে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক




নড়াইলে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি
  • প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৯

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামের ১২০টি পরিবারে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিতে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ৬ লাখ ৬০ হাজার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি টাকা নিতে না দিলে কারো ঘরে আলো জ্বলবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া টাকা না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় দাললের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের মধ্য পুরুলিয়া ও দাড়িপর পাড়ায় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, নড়াইল থেকে ১২০জন গ্রাহকের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সম্প্রতি বৈদ্যুতিক খুটি এবং তার বসানো হয়েছে। আবাসিক সংযোগের জন্য একজন গ্রাহক অফিসে জামানত বাবদ ৪শ টাকা এবং সমিতির সদস্য বাবদ ৫০ টাকা দিলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বৈদ্যুতিক খুটি, সাভিস তার এবং মিটার গ্রাহকের বাড়ির আঙ্গিনায় বসিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বাকি সমস্ত খরচ গ্রাহকের।

অভিযোগে জানা গেছে, পুরুলিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের রকিবুল ইসলাম ও চাচুড়ি এলাকার মিলনসহ কয়েক জন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে পুরুলিয়া মধ্যপাড়ার পলি বেগম, ফিরোজা বেগম, ইবাদুল শেখ, শিক্ষক রুহুল কুদ্দুস,চান মোল্যা, খাজা মিয়া, লিটন শেখ, গফুর শেখ, জান্নু মোল্যা, সালামত শেখ, আকছির বাকা মিনা, দাড়িপর পাড়ার বাদল মোল্যা,সোহেল মোল্যা, সুরত গাজী,রবিউল ইসলাম, সাবু শেখসহ ১শ ২০টি পরিবারের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিচ্ছে।

পলি বেগম অভিযোগে জানান, স্থানীয় চন্দ্রপুর গ্রামের রাকিবুল মোল্যা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছে। দাবিকৃত এ অর্থ দেয়নি বলে রকিবুল হুমকি দিয়েছে, তোমার বাড়ির পাশের বৈদ্যুতিক খুটি ও তার খুলে নেওয়া হবে, টাকা না দিলে ঘরে আলো জ্বলবে না।

পুরুলিয়া গ্রামের ফেরদৌস গাজী বলেন,আমার বাড়ি নির্দিষ্ট আয়ত্বের বাইরে দেখিয়ে রকিবুল বৈদ্যুতিক খুটিসহ সংযোগের জন্য ১২ হাজার টাকা অথবা খুটি বাদে ৬ হাজার টাকা দাবি করেছে। এ জন্য ১ হাজার টাকাও দিলেও আমার বাড়িতে এখনও খুটি ও তার পৌছায়নি।

একই গ্রামের ফিরোজা বেগম বলেন, সে নিজ হাতে দু’টি মিটারের জন্য রাকিবুলকে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার টাকা দিয়েছে। রকিবুল আরও ৬ হাজার টাকা চেয়েছে। একই গ্রামের ইবাদুল শেখ বলেন, একটি মিটারের জন্য ৩ হাজার টাকা দিলেও এখনও তার বাড়িতে তার সংযোগ দেওয়া হয়নি।

দাড়িপর গ্রামের বাদল মোল্যা জানান, তিনি সুদে ২৫শ টাকা এনে চাচুড়ি বাজারের মিলন নামে এক জন ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীকে দিলেও তার ঘরে বিদ্যুৎ পৌছায়নি। এখন স্থানীয় শুকুর মিয়া ও তুহিন বাকি টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।

যশোর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২, কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি বাজার শাখার লাইন টেকনিশিয়ান মেঘনাথ বিশ্বাস বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এ ব্যাপারে ভালো কিছু বলতে পারব না।
রকিবুল ইসলাম নিজেকে পল্লী বিদ্যুত সমিতির ইলেকট্রিশিয়ান দাবি করে বলেছে, বাড়িতে ওয়ারিং করার জন্য ১৫ জনের এক হাজার টাকা করে নিচ্ছি। এর বাইরে তিনি টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে দাড়িপর পাড়ায় অন্য লোক কিছু টাকা নিতে পারে বলে জানান।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নড়াইলের ডিজিএম দিলীপ কুমার বাইন বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাব জোনাল অফিস ভালো বলতে পারবে। তিনি অনিয়মের বিষয়টি জোনাল অফিসের এজিএম-এর সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাব জোনাল অফিসের এজিএম রুবেল হোসেন বলেন, আবাসিক গ্রাহকের বাড়িতে বৈদ্যুতিক খুটি ও তার পৌছে দিতে সরকারিভাবে রশিদের মাধ্যমে জমা দিতে হবে সাড়ে ৪শত টাকা। এর বাইরে অফিসের আর কোনো খরচ নেই। আমরা এসব বিষয়ে ধারনা দিতে বিভিন্ন সময় মিটিং ও উঠান বৈঠক করেছি। তারপরও কিভাবে মানুষ কিভাবে দালালদের ক্ষপরে পড়ে বুঝি না। এলাকার কেউ এ বিষয় নিয়ে কোনো অভিযোগও করেনি। তিনি বিষয়টি খোজখবর নিয়েদেখবেন বলে জানান।

 

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765