রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
রামপালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বসতবাড়িতে ঢুকে গাছপালা কর্তনের অভিযোগ বা‌গেরহা‌টে কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অনু‌ষ্ঠিত বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস পালিত বাগেরহাটে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচির উপকারভোগীদের প্রশিক্ষন শুরু দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে – শেখ তন্ময় এমপি চিতলমারীতে বিক্ষোভকারীদের ইটের আঘাতে কৃষকলীগ নেতা আহত বা‌গেরহা‌টে জেলা প্রশাস‌নের সা‌থে সরকারী বিদ‌্যাল‌য়ের অ‌ভিভাবক‌দের মত‌বি‌নিময় বাগেরহাট সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক পরিষদের কমিটি গঠন বাগেরহাটে পরিবার পরিকল্পনা সেবার মান উন্নয়নে ওয়ার্কিং কমিটির সভা বাগেরহাটে মহানবী (সাঃ)কে কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ




সুন্দরবনে ফের স্থানীয় কয়েকটি দস্যু বাহিনী মাথাচাড়া দিয়েছে

সাতক্ষিরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯

কাগজে কলমে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণা হলেও কার্যত কাগজে কলমে ও গণমাধ্যমের প্রচারেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বৃহৎ অস্ত্র ভান্ডারসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বনদস্যু বাহিনী স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসার প্রতিশ্র“তিতে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু প্রশাসনের কড়া নজরদারী এড়িয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আজও রয়ে গেছে ডজনখানের ছিচকে বনদস্যু বাহিনী। এদের কাছে ভারী বা উন্নত কোন আগ্নেয়াস্ত্র না থাকলেও সামান্য পাইপগান বা দেশীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে সাধারণ বনজীবীদের জিম্মি করে করছে লুটতরাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ছিচকে বনদস্যু বাহিনী বেছে নিয়েছে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্চের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকা। এ বাহিনীগুলোর মধ্যে রয়েছে অল্প কিছুদিন পূর্বে আত্মপ্রকাশ করা শ্যামনগর উপজেলার বনদস্যু কারখানা খ্যাত সুন্দরবন বেষ্টিত দীপপল্লী গোলাখালীর মৃত ছিয়ামউদ্দীন মোল্লার পুত্র মিকাইল বাহিনী। কালিঞ্চী, পার্শ্বেখালী, গোলাখালী, যতিন্দ্রনগর, নতুনঘেরী ও টেংরাখালী গ্রামের বনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য মতে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতিশ্র“তিতে সরকারের কাছে আত্মসমর্পণকারী গোলাখালী পল্লীর জামির আলী মোল্লা (জামু) এর আপন ছোট ভাই দুর্ধর্ষ মিকাইল। এই মিকাইল ৫/৬ মাস পূর্বে এলাকা ছেড়ে ভারতে অবস্থান করে। ভারতে অবস্থানকালে মিকাইলের বন্ধু ৩/৪ বছর পূর্বে ভারতে পাড়ি দেওয়া একই পল্লীর আলী মিস্ত্রীর পুত্র শুকদেব এর সাথে কলকাতার অনতিদূরে অবস্থান করত। শুকদেবকে নিয়েই বর্তমানে সে ৬ সদস্যের একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে। এই বাহিনী নিয়ে গত ১ সপ্তাহে সাতক্ষীরা রেঞ্চের মাহমুদা নদী সংলগ্ন পশুরতলা, মাইটভাঙ্গা, রুচোখালী এবং কালিন্দী নদী সংলগ্ন কচুখালীসহ দাইয়ের গাং, বৈকারী, জোনাবখালী ও হরিণটানা এলাকায় বনজীবীদের উপর মুক্তিপনের দাবিতে বর্বরোচিত নির্যাতন চালাচ্ছে। এলাকার সকল বনজীবীরা বাহিনী প্রধান মিকাইল ও সঙ্গী বন্ধু শুকদেবকে  সহজে চিনতে পেরেছে।
এদের কবল থেকে কৌশলে ফিরে আসা জেলেরা জানায়, মিকাইল ও শুকদেব ছাড়া অন্য সদস্যরা সকলে ভারতের। এদের কাছে আছে মাত্র ৩টা দেশী তৈরি বন্দুক সাদৃশ্য পাইপগান ও কয়েকটি রামদা। বনজীবীরা আরো জানায়, মিকাইল নিজেকে কখনও কখনও জোনাব বাহিনীর সদস্য বলেও পরিচয় দেয়। গত ৩দিন পূর্বে কালিন্দী নদী সংলগ্ন কচুখালী খালে মাছ ধরার সময় মিকাইল বাহিনী ৬ জন জেলেকে জীম্মি করে এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপনের দাবিতে মারপিট করে আহত করে। আটক জেলেদের মধ্যে কয়েকজনকে মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। বনজীবীরা বলছে, লোকালয়ে থাকা মিকাইলের গডফাদাররা মোবাইল করে আটক বনজীবীদের কাউকে কাউকে নির্দিষ্ট করে ছেড়ে দিতে বলে। বেধড়ক মারপিটের স্বীকার মিকাইলের কবল থেকে ফিরে আসা টেংরাখালী গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র বাশার, নতুনঘেরী গ্রামের শহর আলী মোল্লার পুত্র শহীদ, কালিঞ্চী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র মনির ও যতিন্দ্রনগর গ্রামের সুলতান গাজীর পুত্র আলিম জানায়, তারা কচুখালী খালে মাছ ধরার সময় মিকাইল নিজেই তাদের মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করে এবং বাহিনী প্রধান মিকাইলের মোবাইল দিয়ে আত্মীয় স্বজনদের কাছে প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এ সময় মিকাইল ও শুকদেব দু’জনই তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে এবং তাদের ডাক চিৎকার মোবাইলে আত্মীয় স্বজনকে শোনায়। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার মিকাইল বাহিনী বৈকারী খাল থেকে মাছ ধরার সময় পার্শ্বেখালী গ্রামের নওশাদ গাজীর পুত্র মোবারক গাজী (৪৫), টেংরাখালী গ্রামের মৃত তমিজউদ্দিন গাজীর ছেলে সাত্তার গাজীসহ কয়েক জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে আটক করে এবং আজও পর্যন্ত মোবারক মিকাইল বাহিনীর কবজায় আটক রয়েছে। কৌশলে ফিরে আশা জেলে পার্শ্বেখালী গ্রামের ইমাম আলী জানায়, মিকাইল নিজেকে জোনাব বাহিনী সদস্য পরিচয় দেয়। কিন্তু তার বাহিনীতে ৫/৬ জন সদস্য রয়েছে মাত্র। সে আরও জানায়, জেলেরা মিকাইলকে চিনতে পারলেও কোন ওজর আপত্তি খাটেনি। মিকাইল নিজে তাদেরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। ফিরে এসে বনজীবীরা বিষয়টি বিশিষ্ট জনদের মাধ্যমে স্থানীয় রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব থাকা এস আই বোরহান উদ্দিন ও বনবিভাগের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় নৌ-পুলিশ ও বনবিভাগসহ কোস্ট গার্ডকে সার্বিক বিষয় জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে বনদস্যু মিকাইল বাহিনীর কবলে আটক বনজীবীদের উদ্ধারের তৎপরতা দেখা যায়নি বলে বনজীবীদের অভিযোগ।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765