সোমবার, ১৩ মে ২০২৪, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন




সারাদেশে হঠাৎ ছেলেধরা আতঙ্ক, গণপিটুনিতে নিহত ৪

নতুনবার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯

সারাদেশে ছেলেধরা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গেল বৃহস্পতিবার নেত্রকোনায় শিশুর কাটা মুণ্ডু নিয়ে পালানোর সময় গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার একদিন পরেই ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত দুই যুবক আহত হওয়ার পর একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ছেলেধরা সন্দেহে সাভারেও গণপিটুনির শিকার হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাভারের তেঁতুল জোরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অজ্ঞাতপরিচয়ে (৫০) ওই নারী গণপিটুনির শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, একই দিনে (শনিবার) সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তির জন্য খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান তাসলিমা বেগম রেনু (৪০) নামে এক মা। লাশ সনাক্ত করে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু বলেন, নিহত হওয়া ওই নারী ছেলেধরা ছিলেন না। বরং উত্তর বাড্ডায় ওই স্কুলে গিয়েছিলেন সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য খোঁজখবর নিতে। আর সেখানে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

অপরদিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

জানা যায়, রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় শনিবার সকালে ছেলেধরা সন্দেহে এক নারী  (৪০) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। বাড্ডা থানার এসআই গোলাম মোস্তাফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় শিশুচোর সন্দেহে এক নারীকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেন। এতে ওই নারী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মর্গে রয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিননগর এলাকায় শনিবার সকালে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী আইডিয়াল ইসলামিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ রেদোয়ান আহমেদ জানান, সকালে তিনি তার ফার্মেসিতে বসা ছিলেন। এ সময় রিকশা করে পালানোর সময় একটি মেয়ের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে দেখতে পান তারই স্কুলেরই ছাত্রী অজ্ঞাত এক যুবক ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তিনি বলেন মেয়েটি তার স্কুলের ছাত্রী সাদিয়া ও তার বাবা সোহেল। ওই যুবকটি মেয়েটির বাবা না। তখন যুবকটি মেয়েটিকে নিয়ে পালানোর উদ্দেশে দৌড় দেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ছেলেধরা সন্দেহে যুবকটিকে আটকে গণপিটুনি দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই কাশেম জানান, ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনির খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে শুক্রবার রাতে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হতাহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাদের বয়স ২৮-৩০ বছরের মধ্যে। এসআই চুন্নু মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে রসুলপুর গ্রামে অপরিচিত ওই দুই যুবক ঘুরাঘুরি করছিলেন। তাদের গতিবিধি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ছেলেধরা মনে করে পিটুনি দেন। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। হযরতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আয়নাল হোসেনের উপস্থিতে আহতবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আহতদের একজনকে চেয়ারম্যানের লোকজনের মাধ্যমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং অপরজনকে মালঞ্চ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা যান। আহত অপর যুবক গুরুতর অসুস্থ থাকায় কোনও কথা বলতে পারছেন না। তিনি সুস্থ হলে যুবকদের পরিচয় জানা যেতে পারে। কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মাদ যোবায়ের জানান, হযরতপুরের রসুলপুর গ্রামের লোকজন ছেলেধরা বা গলাকাটা সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি দেয়। তাদের একজন মারা গেছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করা হবে। তারা আসলেই ছেলেধরা কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় শনিবার সকালে ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গুরুতর আহত ওই নারীকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গণপিটুনির শিকার ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। গুরুতর আহত ওই নারীর নাম মমতাজ খাতুন। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকার আবদুল আলীমের স্ত্রী। জিএমপির বাসন থানার ওসি জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তায় ওই নারীকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ মমতাজ খাতুনকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগে গেল বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা জেলা শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে শিশুর কাটা মস্তক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সময় গণপিটুনিতে রবিন নামের এক যুবক নিহত হন। নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শাহজাহান মিয়া  জানান, বেলা সাড়ে ১২টার  দিকে শহরের বারহাট্টা রোড এলাকার হরিজনপল্লীতে রবিন একটি ব্যাগ হাতে মদ খেতে যায়। সেখানে এক ঘরে মদ না পেয়ে অন্য ঘরে যাওয়ার সময় ব্যাগ থেকে রক্ত পড়তে দেখেন হরিজনপল্লীর লোকজন। তখন জিজ্ঞেস করলে সে সঠিক জবাব দিতে না পারায় ব্যাগ খুলে শিশুর মস্তক দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় সে মস্তক নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রাও তার পিছু ধাওয়া করে নিউটাউন এলাকার অনন্তপুকুরপাড়ে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে পুলিশ নিহত শিশু সজিবের দেহ কাটলি এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে উদ্ধার করে।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765