বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বাজারজাত করা এডভানটা ক্রপ কেয়ার লিমিটেডের একাধিক রাসায়নিক সার পরীক্ষায় ভেজাল ও নিম্নমানের হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে এডভানটা ক্রপ কেয়ার লিমিটেডের জিঙ্ক সালফেট (মনোহাইড্রেট) ও সুপার বোরন সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনা কৃষি গবেষণাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় এসব সারে প্রয়োজনীয় উপাদানের মাত্রা সরকার নির্ধারিত মানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম পাওয়া যায়। পরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়,জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) সারে জিংকের পরিমাণ যেখানে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মান ৩০ শতাংশ থাকার কথা সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ১.৩ শতাংশ । একই সারে সালফার, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সিসা ও নিকেলের মাত্রাও অনুমোদিত মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সুপার বোরন সারে বোরন এর পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ০.১ শতাংশ, যেখানে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মান ২০ শতাংশ।
পরীক্ষা প্রতিবেদনে সার ( ব্যবস্থাপনা) আইন,২০০৬ এর ধারা ১৭, উপধারা ২(ঘ) অনুযায়ী এসব সারকে স্পষ্টভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের সার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এক লিখিত নির্দেশনায় জানানো হয়, মোরেলগঞ্জ উপজেলাধীন সকল বাজার থেকে ভেজাল ও নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত উক্ত সারগুলো তিন (৩) কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজার থেকে ভেজাল সার প্রত্যাহার না করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরে অবশ্য কৃষি বিভাগ বিভিন্ন স্থান থেকে এসব সার জব্দ করে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ভেজাল সার ব্যবহার করলে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি ও সার পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের কোনো সন্দেহজনক সার কিনলে বা বিক্রি হতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় কৃষি অফিসে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মোরেলগঞ্জের কয়েকজন সার ডিলার জানান, ইতিমধ্যে তাদের কাছ থেকে কৃষি বিভাগ এই সার জব্দ করে নিয়ে গেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে এডভানটা ক্রপ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান শফিউদ্দীন নিজেকে একটি বড় রাজনৈতিক দলের কৃষক সংগঠনের নেতা দাবী করে জানান, সার কিছু দিন রেখে দিলে এর বিভিন্ন উপদানের পরিমান কিছুটা কমতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে তার উর্ধতন কর্মকর্তারা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে বাগেরহাটের কৃষকদের মধ্যে ভেজাল সার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত বাজার থেকে এসব সার অপসারণ এবং দায়ী কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে বাগেরহাটের সেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন এক্টিভিষ্টা বাগেরহাটের সদস্য শেখ ইমরান হোসেন বলেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এদেশের কৃষকরা ফসল ফলায়। ভেজাল ও নিম্নমানের সারসহ কৃষিপণ্য যারা বাজারজাত করে তারা দেশের শত্রু। কৃষকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া সরকারের দায়িত্ব।
তিনি এসব কোম্পানীর অন্য সব পন্য দ্রুত পরিক্ষা করে জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য কৃষি বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানান।
এবিষয়ে খুলনা বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ( এডি) রফিকুল ইসলাম বলেন, তার অধিনস্ত খুলনার সব কৃষি কর্মকর্তাদের ওই ভেজাল ও নিম্নমানের রাসায়নিক সার বাজার থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলার জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে। বাজার থেকে তুলে নিতে বললে কোম্পানী আবার মোড়ক পরিবর্তন করে বাজারে ছাড়বে। কৃষকদের সাথে প্রতারণার চেষ্টা করলে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।