নড়াইলে থামছে না জনযুদ্ধ পরিচয়ে শিক্ষকদের কাছে চাঁদা দাবি সর্বশেষ সোমবার কালিয়া শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষক এবং অফিস সহকারীর কাছেও নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দল জনযুদ্ধ পরিচয়ে টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গত ৫ দিনে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজ এবং লোহাগড়া সরকারি কলেজ এবং কালিয়া শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজের মোট ৩৭জন শিক্ষক ও এক অফিস সহকারীরর কাছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।
নড়াইল পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রবিউল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে দেখা করে সবাইকে আস্বস্থ করেন এবং তিনি বলেন,অপরাধিদের ধরতে নড়াইল পুলিশের সাইবার টিম কাজ করছে। তারা দোষিদের খুঁজে বের করবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও বিগত ৫দিনে কোন অপরাধিই আটক হয়নি।
কালিয়া শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহাদত হোসেন মিটু জানান, বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টি (এম.এল) জনযুদ্ধ পরিচয়ে গত সোমবার কালিয়া শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তপন কুমার দাসের কাছে ২ লাখ টাকা, গণিত বিভাগের প্রভাষক দিপংকর ঘোষ এবং অফিস সহকারী মোঃ শফিকুল ইসলামের কাছে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি তারা কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। এ নিয়ে শিক্ষকরা খুবই আতংকিত বলে জানান।
একই দিন সোমবার লোহাগড়া সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক দর্শন বিভাগের প্রভাষক গাজী শহিদুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মোঃ কবির হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ খায়রুজ্জামান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কাজী সোহেল রানাসহ ১২ শিক্ষকের প্রত্যেকের কাছে ২ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। না দিলে হত্যাসহ বিভন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করা হয়।
রোববার একইভাবে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এম আব্দুর রহিমসহ এ বিভাগের অপর শিক্ষক আবুল হাসনাত খান, অর্থনীতি বিভাগের এহসানুল হক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তরফদার সাজ্জাদ হোসেন টিপু ও প্রসেনজিৎ দাস, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিমুল কুমার ভক্ত, রসায়ন বিভাগের হাসানুজ্জামান ছাড়াও কলেজের ২০ শিক্ষকের কাছে জনযুদ্ধ ও সর্বহারা পরিচয়ে দুই লাখ টাকা করে ৪০ লাখ চাঁদা দাবি করা হয়। এই টাকা বিকাশ নম্বরে দিতে বলা হয়েছে।
এবং শনিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের তিন শিক্ষকের কাছে একইভাবে জনযুদ্ধ পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়।