গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন যাবত ডাক্তার সংকট চলছে। মাত্র ২ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা। রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে বার বার তাগিদ দিয়ে ও কোন সমাধান হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্র জানায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন ডাক্তারের পদ থাকলে ও ডাক্তার পোষ্টিং দেয়া আছে মাত্র ৫ জন। এরমধ্যে তিন জন ডাক্তার অনুপস্থিত। ডাঃ রোম্মানা সুলতানা (জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্তেশিয়া) পেশনে আছেন জাতীয় সংসদে। ডাঃ ফাহামিদা শারমিন (জ্যাতি) অব্যাহতির আবেদন করেছেন। আর বিনা অনুমতিতে ২০১১ সাল থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন ডাঃ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী)। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইব্রাহিম খলিল ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী বর্হি বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসে।তাছাড়া ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি থাকে ৩০ থেকে ৬০ জন। এত রোগী দু’জন ডাক্তারের পক্ষে সুষ্ঠ ভাবে সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মূমূর্ষ রোগী এসে প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেনা। তারা ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মাত্র দ’ুজন ডাক্তার দ্বারা আড়াই লক্ষ অধ্যুষিত উপজেলার রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ দু’জন ডাক্তার দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টাই সেবা দিতে হচ্ছে। তাদের বিরামহীন ভাবে কাজ করতে হচ্ছে। ডাক্তার সংকটের ব্যাপারে বার বার কতৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোন কাজেই আসছেনা। জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার সংকট দুর করা আবশ্যক। তানাহলে গোসাইরহাট উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়বে।
গোসাইরহাটের মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এ হাসপাতালে ডাক্তার সংকট। রোগীরা তেমন সেবা পায়না। ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।
রোগী আলী আহম্মেদ বলেন, এ হাসপাতালে পেটের ব্যাথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে তিন ঘন্টা যাবত অপেক্ষা করছি। ডাক্তার কম থাকায় রোগী দেখাতে দেরী হচ্ছে। রোগীর ও খুব কষ্ট হচ্ছে।
রোগীর অভিভাবক সাঈদ আহম্মেদ বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ নেই। নোংরা আবর্জনায় ভরা। বাতরুম গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ও দুর্গন্ধযুক্ত। ডাক্তার কম থাকায় রীতিমত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার মোঃ ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমাদের হাসপাতালে ডাক্তার সংকট । দিবারাত্রি আমরা দু’জন ডাক্তার কাজ করি। এ কারনে রোগীদেরকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার পোষ্টিং দেয়া দরকার।
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট রয়েছে দীর্ঘদিন। মাত্র দু’জন ডাক্তার দ্বারা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েেেছ।জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের সংকট দুর করা আবশ্যক।