শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মার আকস্মিক ভাংগনে ডানতীর রক্ষা বাধের ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে ধসে পড়েছে। এতে করে একটি মসজিদ কয়েকটি বাড়ি ঘর ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে নড়িয়া উপজেলার সাধুর বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আশে পাশের বাড়ি ঘরের লোকজনের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাতেই কমপক্ষে ৫০টি বাড়ির বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত এক সপপ্তাহ যাবত পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারনে নদীতে পানির ¯্রােতে পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাধের ১০০ মিটার অংশ ধবসে পড়েছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থলে ডাম্পিং কাজ শুরু করেছে। সারদিন কয়েক শত বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে। এখনো ভাংগন অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সময় লাগবে। পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামূল হক শামীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তড়িৎ ভাংগন রোধের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ থাকে যে পদ্মা নদীতে নড়িয়া উপজেলার প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে ভাংগন চলছিল।এতে করে প্রায় ৬ হাজার পরিবার সবস্ব হারিয়ে গৃহহীনহয়ে পড়ে।নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বহু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাংগন ঠেকাতে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নৌবাহিীনীর খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড কে ঐ কাজের কার্যাদেশ প্রদান করে।যার মধ্যে ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নড়িয়া সুরেশ্বর হতে জাজিরা কাইয়ুম খার বাজার পর্যন্ত ৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার অংশে নদীর ডান তীর রক্ষা বাধের কাজ। বাকি টাকা দিয়ে নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ করা হবে। গত ১২ ডিসেম্বর ঐ প্রকল্পে নদীর তীর রক্ষার কাজ শুরু হয়।
কেদারপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে সাধুর বাজার এলাকায় হঠাৎ করে ৩০ মিটার পাশে ১০০ মিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে পানির নিচে ধবসে গেছে। একটি পাকা মসজিদ, কয়েকটি বাড়ি সহ গাছপালা নদীতে বিলনি হয়ে যায়। এখনো থেমে থেমে ভাংগন অব্যাহত রয়েছে।ঐ এলাকার লোকজন আতংকে ঘর বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তি রুপা রায় বলেন, ঘটনার পর পর আশে পাশের লোকজনদের কে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ঞ সরকার বলেন,আমরা নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করে থাকি।কোথা ও কোন ফাটল দেখিনি। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাতে ১০০ মিটার জায়গা নিয়ে ধসে পড়েছে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরী ভাবে ডাম্পিং কাজ শুরু করা হয়েছে।এখনো ভাংগন চলছে।আশা করছি নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।