বাগেরহাটে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট–২ (সদর–কচুয়া) আসনে ১০ দলীয় জোটের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তিনি বলেন, দেশে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর গোপালপুর ইউনিয়ন আমির শেখ আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আসাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ এনামুল কবির, এডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, মাওলানা শহীদুল আলম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা শহিদুল ইসলাম খান, ফকির আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আলতাপ হোসাইন ও হাফেজ সাইদুজ্জামানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দুঃশাসনের কারণে দেশের মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, যুব সমাজকে নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুশাসিত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াত ইসলামীর বিকল্প নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
জনসভায় তিনি জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি। এতে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সব সময় আপসহীন ভূমিকা রেখে আসছে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণ সচেতনভাবে ভোট দিলে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
জনসভা শেষে নেতাকর্মীরা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।