বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বাগেরহাটে তিন মসজিদের নামে ভুয়া প্রকল্পে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বাগেরহাট অফিসার্স ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনীতে জেলার মেধাবী সন্তানদের মিলনমেলা বাগেরহাটে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান শরনখোলায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩, চিকিৎসক বলছে ‘কার্ডিয়াক অ্যাটাক’ একাদশ বিসিএস ফোরামের সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম, সম্পাদক ইহসানুল হক বাগেরহাটে অশ্রুসিক্ত নয়নে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদায় রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন এমডি ইঞ্জিনিয়ার রমানাথ পুজারি উপকূলীয় উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা: তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন শেখ ফরিদুল ইসলাম পরীক্ষায় ভেজাল ও মানহীন প্রমাণিত : বাগেরহাটে এডভানটা কোম্পানির সার বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ




ঢাকা আলিয়ার হল এখন ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে জিম্মি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ: সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার আল্লামা কাশগরী হল এখন ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে জিম্মি। তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য, সিট বাণিজ্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থী এবং আবাসিক ছাত্ররা।

ঢাকা আলিয়া হিসেবে পরিচিত দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে একচ্ছত্র আধিপত্য, সিট বাণিজ্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার আল্লামা কাশগরী হলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে রীতিমত ভীতসন্ত্রস্ত সাধারণ শিক্ষার্থী এবং আবাসিক ছাত্ররা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলিয়া মাদরাসায় একক আধিপত্য বিস্তার করছে ছাত্রলীগের হল সভাপতিহ শাহাদাৎ এবং সেক্রেটারী সুলাইমান। সিট নেয়া থেকে শুরু করে সিট ছাড়ানো পর্যন্ত সব কিছুর অলিখিত কর্তা বনে বসে আছে সভাপতি-সেক্রেটারী।

মাদরাসার হোস্টেলে মাদক এবং অনৈতিক কাজও হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতার সঙ্গে আলাপচারিতায় শাহাদাৎ-সুলাইমানের নানা অপকর্মের সত্যতা তুলে ধরে বলেন, হলের ভেতর মাদকের আখড়া বসে। ইয়াবা থেকে শুরু করে সব ধরণে মাদক অবাধে সেবন করা যায় মাদরাসার হলে। শুধু তাই নয়, হলে মেয়েছেলে এনে বাজে কাজও করা হয় কখনোসখনো। তবে এ ধরণের কাজ খুব একটা হয় না বললেই চলে। বেশি চলে মাদকের কারবার।

এদিকে একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, সিট নেয়ার জন্য অফিসিয়াল কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সিট বাণিজ্য করছে হলের ছাত্রলীগ নেতারা। নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হলে ওঠেছে বহিরাগত অনেকেই।

ওই শিক্ষার্থীরা বলেন, সিট নেয়ার সময়ই ‘বড় ভাই’-এর হাতে দিতে হয় আট থেকে দশ হাজার টাকা। টাকা না দিলে কোনোভাবেই সিট মিলে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পড়তে এসেছি। মাদরাসায় যে এরকম সিট বাণিজ্য হতে পারে- তা চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। ওই শিক্ষার্থী বলেন, বড় ভাইদের কথায় যেমন সিট মিলে, তেমিন সিট কাটা পড়ে তাদের ইশারাতেই। কোনো কারণ দর্শানো কিংবা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সিট বাতিল করে হল থেকে করে দেয় কথিত এই বড় ভাইরা। টু শব্দটি পর্যন্ত করার সাহস হয় না ছাত্রদের।

আল আমিন নামে কামিল প্রথম বর্ষের এক ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী তিন বছর হলে থাকার নির্মম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, হলে থাকতে হলে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিয়ে হলে থাকার জো নেই। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই হলের বিল পরিশোধ করে না। বড় ভাইরা বলে, আমাদের টাকা দিছো, হলের টাকা দেয়া লাগবে না।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগ করা বাধ্যতামূলক। পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনের পর দিন রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যস্ত রাখা হয় সাধারণ ছাত্রদের। ভিন্ন মতাবলম্বী তো বটেই এমনকি যারা রাজনীতি পছন্দ করে না তাদেরও রেহাই নেই। কারণে অকারণে অকথ্য নির্যাতন করা হয় ছাত্রলীগ না করা শিক্ষার্থীদের। হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর গতিবিধি, অনলাইন-অফলাইন এ্যক্টিভিটিস, আড্ডা, মন্তব্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ‘বড় ভাইরা’।

শিক্ষার্থীরা জানান, কোনো ধরণের সন্দেহজনক আচরণ, কথাবার্তা পেলেই বেধম মারপিট করে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সভা সমিতিতে ছাত্ররা উপস্থিত না থাকলে তাদেরকেও হল থেকে বের করে দেয়। কেউ যদি ছুটি নিয়ে বাড়ি থাকে আর ওই সময় দলীয় কোনো মিটিং থাকে তাহলে মিটিংএ উপস্থিত না থাকার জন্য মোটা অংকের জরিমানা ধার্য করা হয়।

‘মোটা অংক’ সম্পর্কে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময় আমি হলে উপস্থিত না থাকায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নেয় আমার কাছ থেকে।

এ ছাড়াও সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার আশেপাশের হোটেল-দোকান থেকে চাঁদাবাজির ঘটনাও স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের একজন নেতা। তিনি বলেন, মাদরাসার আশেপাশের দোকান থেকেও আমরা চাঁদা নিই। চাঁদা দিতে না চাইলে দোকান করতে পারবে না বলে হুমকি-ধমকি দিই। মারধরও করি। আসলে আমরা কী করব? ওপর থেকে যা করতে বলে আমরা শুধু তাই করি।

সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার হলে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অনৈতিক কার্মকান্ডের বিষয়ে হল সুপার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হলে বহিরাগত ছাত্র এক-আধজন যে থাকে না- তা নয়। তবে অনুসন্ধান করে বরিরাগত লোকজন পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাছাড়া হলের ভেতর কোনো শিক্ষার্থী যদি কোনো ধরণের হয়রানির শিকার হয় কিংবা অনৈতিক কর্মকান্ড করে থাকে আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকরি পদক্ষেপ নিই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আলিয়া মাদ্রাসায় একক আধিপত্য বিস্তার করছে ছাত্রলীগের হল সভাপতি শাহাদাৎ এবং সাধারণ সম্পাদক সুলাইমান। সিট নেয়া থেকে শুরু করে সিট ছাড়ানো পর্যন্ত সব কিছুর অলিখিত কর্তা বনে বসে আছেন তারা।

একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, সিট নেয়ার জন্য অফিসিয়াল কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সিট বাণিজ্য করছেন তারা। নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হলে উঠছেন বহিরাগত অনেকেই। শিক্ষার্থীরা বলেন, পুরো বছর আলিয়ায় থাকা-খাওয়ার ফি সর্বসাকুল্যে মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু সিট নেয়ার সময়ই ‘বড় ভাই’র হাতে দিতে হয় আট থেকে দশ হাজার টাকা।

টাকা না দিলে কোনোভাবেই সিট মেলে না। আরেক শিক্ষার্থী আল-আমিন (ছদ্মনাম) বলেন, হলে থাকতে হলে ছাত্রলীগ করা বাধ্যতামূলক। হলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর গতিবিধি, অনলাইন-অফলাইন অ্যক্টিভিটিস, আড্ডা, মন্তব্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে বড় ভাইয়েরা। কোনো ধরনের সন্দেহজনক আচরণ, কথাবার্তা পেলেই বেধম মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়া হয়।

সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার হলে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অনৈতিক কার্মকাণ্ডের বিষয়ে হল সুপার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বহিরাগত লোকজন পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তা ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765