বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বাগেরহাটে সাবলীল পাঠক ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মৌলভীবাজারে শতবর্ষী মাছের মেলা বাগেরহাট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ বাগেরহাটে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বার্ষিক ক্রীড়া-সাহিত্য-সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বাগেরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার : ১ অপহরণকারী আটক বাগেরহাট সদর উপজেলা এনসিপি নেতাদের পদত্যাগ সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪৯০ কেজি অবৈধ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী আটক বাগেরহাট প্রেসক্লাবে মেহেদী হাসান প্রিন্সের পক্ষ থেকে কম্পিউটার প্রদান




গ্যাসের দাম বাড়ানোয় সংসদে ক্ষোভ

নতুনবার্তা ডেস্ক
  • প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯

গ্যাসের দাম বাড়ানোয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এই ইস্যুতে বিশদ আলোচনার জন্য একটি নোটিশও দিয়েছেন।

রোববার সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, বাজেট পাস হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিইআরসির এ ঘোষণা সংসদের প্রতি অবমাননা। সরকারের এ সিদ্ধান্তে তিনি হতাশ।

এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম ও জাসদের শিরীন আখতারের পৃথক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে পরোক্ষভাবে সকলে লাভবান হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিরীন আখতার বলেন, মাত্র বাজেট শেষ হলো। সরকারের অনেক ক্ষেত্রে অনেক প্রশংসা, আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল গ্যাসের দাম বেড়ে গেল। সিএনজিসহ বাড়ির গ্যাস-বিদ্যুৎ সব জায়গায় যেভাবে বাড়ল, তার একটা প্রভাব পড়ছে। এলএনজি আমদানিতে ভারতের চেয়ে বেশি দাম পড়ছে। এ অবস্থা তৈরির কারণ জানতে চান তিনি।

জবাবে ড. রাজ্জাক বলেন, গ্যাসের দাম বেশ কয়েকবার বেড়েছে এবং প্রতিক্রিয়াও হয়েছে যে দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। স্বীকার করি, দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গ্যাস, কয়লা বা ডিজেল লাগে। এতে অনেক ভর্তুকি দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিন্তা করতে হবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে কিছুটা দাম বাড়লেও এর নানামুখী প্রভাব, অর্থাৎ শিল্পকারখানা স্থাপনসহ সার্বিক অর্থনীতির ওপর পড়বে।

তিনি বলেন, সব সময় যদি সরকারকে ভর্তুকিই দিতে হয়, তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। কাজেই সব দিক বিচার-বিবেচনা করে দাম বাড়াতে হয়েছে। এতে কিছু কিছু মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরোক্ষভাবে সবাই লাভবান হবে। সার্বিক অর্থনীতির ওপরে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে বড় প্রয়োজন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। আর শিল্পকারখানার জন্য সবচেয়ে বড় অন্তরায় ছিল জ্বালানি। এলএনজি আমদানি করে গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট এসেছে। বেসরকারি খাতের সামিট পাওয়ার ৫০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট আনছে। ফলে অনেকটা স্বস্তি এসেছে।

জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম জানতে চান, সংসদের অধিবেশন চলমান থাকা অবস্থায় সংসদকে না জানিয়েছে গ্যাসের দাম বাড়ানো বৈধ নাকি অবৈধ? জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে সঠিক উত্তর পাবেন।

বিএনপির রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে, তখন বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট। পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা এক ওয়াট বিদ্যুৎও যোগ করতে পারেনি। এখন ১৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। শিল্পকারখানা সচল ও রফতানি আয় বাড়ানোর জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে। সুতরাং রাজনীতি না করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে গৃহস্থালিতে, শিল্পে, পরিবহনে, অর্থাৎ অর্থনীতির সামগ্রিক ক্ষেত্রে এর একটা প্রতিক্রিয়া হবে। কৃষিমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। জনগণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া আছে। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা আছে।

মেনন বলেন, মন্ত্রী বলেছেন, মূল্য সমন্বয় এবং ভর্তুকি কমানোর জন্য তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারত প্রতি হাজার সিএফটি এলএনজি আনছে সাড়ে ছয় ডলারে। বাংলাদেশ আনছে সাড়ে ১০ ডলার দিয়ে। পাকিস্তানে আনা হচ্ছে সাড়ে ৯ ডলার দিয়ে। বলা হচ্ছে, গ্যাস শহরের মানুষ ব্যবহার করে। কিন্তু গ্রামের মানুষ এলপিজি ব্যবহার করে। এরই মধ্যে এলপিজির মূল্য ৩২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে এলপিজির দাম বেড়েছে। যখন সিএনজি বন্ধ করে দেওয়া হবে, সমস্ত সিএনজি স্টেশন এলপিজিতে রূপান্তর হবে। আসলে এলপিজির বাজার ঠিক করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি-না সেটাও আলোচনার বিষয়।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765