শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
বাগেরহাটে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু, ৯০ স্থানে সম্প্রসারণের ঘোষণা বাগেরহাটে সাবলীল পাঠক ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ মৌলভীবাজারে শতবর্ষী মাছের মেলা বাগেরহাট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ বাগেরহাটে যুবদলের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বার্ষিক ক্রীড়া-সাহিত্য-সংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বাগেরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার : ১ অপহরণকারী আটক বাগেরহাট সদর উপজেলা এনসিপি নেতাদের পদত্যাগ সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪৯০ কেজি অবৈধ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী আটক




খুলনায় অপরাধে জড়িত তিনটি কিশোর গ্যাং

খুলনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশ: বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

খুলনায় সম্প্রতি কিশোর ও বখাটে যুবকদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। মাদক বহন ও সেবন, ছিনতাই, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, রাজনৈতিক দলের হয়ে বিশৃঙ্খলা, তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, এমনকি খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে বখাটে কিশোর ও যুবকরা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। এ অবস্থায় খুলনায় কিশোর ও যুবক গ্যাংয়ের সন্ধানে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে বখাটে যুবকদের তিনটি গ্যাংয়ের সন্ধান পেয়েছেন তারা। তবে এর আগে বিভিন্ন অপকর্মে সম্পৃক্ত অন্য তিনটি কিশোর গ্যাং এখন নিষ্ফ্ক্রিয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, তারা অনুসন্ধান চালিয়ে তিনটি গ্যাংয়ের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে ফুলতলা উপজেলায় একটি বখাটে গ্যাং রয়েছে। ওই গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নতুন রাস্তা মোড় এলাকায় একটি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তারা লোকজনের কাছ থেকে টাকা ও অন্য মালপত্র ছিনতাই এবং ইজিবাইক লুটের কাজে সম্পৃক্ত। রূপসাঘাট এলাকায় আরেকটি গ্যাং রয়েছে, যারা নিজেরা ইয়াবা সেবন ও বিক্রি করে থাকে। তবে এ তিনটি গ্যাংয়ের কোনো নাম নেই। গ্যাং সদস্যদের নাম সংগ্রহসহ তাদের ব্যাপারে আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছে র‌্যাব।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ বলছে, তাদের কাছে গ্যাং বা বখাটে পার্টির কোনো তথ্য নেই। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, গ্যাং ও গ্রুপের বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন। তবে নগরীতে এখন এ ধরনের কোনো গ্রুপ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

জেলা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় তারা সতর্ক রয়েছেন। এ ব্যাপারে নয় থানার ওসিদেরও পুলিশ সুপার নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা খোঁজখবর রাখছেন। তবে জেলার নয়টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী গ্যাং বা গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে গত ২৯ জুন নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় স্কুলছাত্রী এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তার বোন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনজন বখাটে যুবকের সহযোগিতায় ছয়জন যুবক তার বোনকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় নগরীজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

এই গণধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে কেএমপির এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে শান্ত নামে এক যুবক প্রেম করে তাকে তার বন্ধুর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন বখাটে গণধর্ষণ করে। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাদের কোনো সংঘবদ্ধ গ্রুপ বা গ্যাং নেই।

গত বছরের জানুয়ারিতে প্রেম-সংক্রান্ত বিরোধে খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনকে এলাকার ১১ জন কিশোর ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরীর বয়রা এলাকা থেকে রয়েল ও মিতুল নামে দু’জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে সংশ্নিষ্ট এলাকায় গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পায় র‌্যাব। সেগুলো হচ্ছে- ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ ও টিপসি গ্যাং।

এ গ্যাংগুলো নগরীর বয়রা, পালপাড়া, খুলনা পাবলিক কলেজ, মডেল স্কুল, শ্মশানঘাট, পিএমজি স্কুল, আফজালের মোড় প্রভৃতি এলাকায় সক্রিয় ছিল। প্রতিটি গ্যাংয়ের সদস্য ছিল ১৫-২০ জন করে। তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৮ বছরের নিচে। গ্যাংয়ের সদস্যরা সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয় কিছু অছাত্র বখাটে কিশোরও এসব গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। গ্রুপের কোনো সদস্যের সঙ্গে কারও ঝগড়া হলে অন্যরা গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত। গ্যাংয়ের সদস্যদের অনেকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, হুমকি-ধমকি দেওয়া, মারধর করা, মাদক সেবন প্রভৃতি অভিযোগ ছিল। তবে গত ছয় মাসে এই গ্যাংগুলোর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয় লোকজন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক মেজর শামীম সরকার জানান, ওই তিনটি গ্যাংয়ের বেশিরভাগ সদস্যকে আটক হয়েছে। এর পর আর তাদের কোনো তৎপরতা নেই।

২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর নগরীর চানমারী এলাকায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিবাদে ছুরিকাঘাতে খুন হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী খলিলুর রহমান সিয়াম। এ ঘটনায় ১০ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেফতার হওয়া চার কিশোরের মধ্যে দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ছেলেদের বখাটেপনা সম্পর্কে অনেক অভিভাবকের সচেতনতা ও নজরদারির অভাব রয়েছে। সন্তানরা কে কী করে, কোথায় যায় অনেক অভিভাবকই তা খেয়াল করেন না। এ ছাড়া স্কুল পর্যায়ে কাউন্সেলিং এবং নগরীতে বিনোদনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায়ও কিশোর-যুবকরা অপরাধপ্রবণ হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এই অপরাধপ্রবণতা বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765