১১ বছরের শিশু মানব পাচার মামলার আসামী!

মানবপাচারের অভিযোগে কক্সবাজারে করা এক মামলায় ২২ বছর বয়স দেখিয়ে আসামি করা হয়েছে ১১ বছরের এক শিশুকে। এ বিষয়ে শুনানিশেষে সোমবার হাইকোর্ট আট সপ্তাহের জন্য জামিন দিয়েছেন শিশু আসামিকে। এ সময় আদালত বলেন, ওতো এখনও মানবই হতে পারেনি। তাহলে ও মানবপাচার করবে কিভাবে?

সূত্র জানায়, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার শিশুটিকে জামিন দেন। শিশুটির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জামান আক্তার বুলবুল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি। গতকাল আদালতে শুনানিকালে শিশুটি ও তার মা উপস্থিত ছিলেন।

শিশুটির পক্ষে আইনজীবী বলেন, গতবছর কক্সবাজারের রামু থানায় মানবপাচারের অভিযোগে শিশুটিসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা হয়। মামলার সময় শিশুটির বয়স ছিল ১১ বছর। আর মামলায় ঘটনা দেখানো হয়েছে ২০১৪ সালের। তাহলে ওইসময় শিশুটির বয়স ছিল ৭ বছর। এই শিশু কিভাবে মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে?

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আসামি মাইনর। তার বয়স হয়তো ১২ বছর হতে পারে। আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।’

রামুর হাজি পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম গতবছর চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। তিনি রামুর চাকমারকুল এলাকার ওই শিশুসহ ৬ জনকে আসামি করেন। অভিযোগে জানান, বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনে কাজ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে নুরুল ইসলামকে ওই বছরের ২১ জুন সাগরে ছোট নৌকার মাধ্যমে জাহাজে তুলে দেয়আ হয়েছিল। কয়েকদিন পর জাহাজ থেকে তাকে থাইল্যান্ডের উপকুলীয় পাহাড়ের জঙ্গলে নামিয়ে দেয়া হয়। সেখানে দালালরা মারধর করে ও পরে মুক্তিপণ দাবি করে। আসামিরা এ সময় দুই লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে আরও ১ লাখ টাকা নিয়ে তাকে মালয়েশিয়া পাঠানো হয়েছিল। ২০১৭ সালের জুন মাসে তিনি মালয়েশিয়ায় অভিযানকালে আটক হন। এক বছর সেখানে জেল খাটার পর নুরুল ইসলাম দেশে ফিরে মামলা করেন।