লালমণিরহাটে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

দরপত্র ছাড়াই জেলা পরিষদের আসবাবপত্র বানানের অজুহাতে মহাসড়কের দু’পাশে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে তাহমিদুল ইসলাম বিপ্লব নামে এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। তিনি সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য। গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৩দিনে লালমনিরহাট বড়বাড়ি মহাসড়কের সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় ৫লক্ষাধিক টাকার তাজা গাছ কাটা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কের দু’পাশে লাগানো কড়ই গাছগুলো বিশাল আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মহাসড়কটির সৌন্দর্য বর্ধনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে এসব গাছ। গত শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কটির গাছগুলো কাটা শুরু করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য তাহমিদুল ইসলাম বিপ্লব। স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের জানানো হয় জেলা পরিষদের পুরাতন হলরুমের আসবাবপত্র মেরামত করতে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হচ্ছে। তবে প্রথমদিন ৪টি গাছ কাটার কথা বলা হলেও গত ৩দিনে ৮টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে।

করাত মিস্ত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারাও স্বীকার করেন ওই আওয়ামীলীগ নেতার ডাকে শ্রমিক হিসেবে গাছ কাটছেন। কর্তনকরা এসব গাছের মূল্য ৫লক্ষাধিক টাকা বলেও তারা জানান।

স্থানীয় সাংস্কৃতিকর্মী সূফী মোহাম্মদ বলেন, গাছগুলো সড়কটিতে বেশ শোভাবর্ধন করে বীরদর্পে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। প্রায় সময় বিভিন্ন অজুহাতে ওই আওয়ামীলীগ নেতা এলাকার জীবন্ত গাছগুলো কেটে সাবাড় করেছেন। সড়কটি আর আগের মত সৌন্দর্য বর্ধন করে না। অবশিষ্ট যে কয়েকটি গাছ দাঁড়িয়েছিল সেগুলোও কেটে নিতে নতুন মিশনে নেমেছেন এ নেতা। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা তাহমিদুল ইসলাম বিপ্লব গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দরপত্র না হলেও জেলা পরিষদের পুরাতন হলরুমের আসবাবপত্র মেরামত করতে কিছু কাঠের প্রয়োজন। তাই জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। হলরুম মেরামত না হওয়া পর্যন্ত গাছ কর্তনের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, জীবন্ত গাছ নয়, ওই সড়কের মৃত গাছ কাটারও কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।