ভিসির পদত্যাগই একমাত্র সমাধান : বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

 

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগই একমাত্র সমাধান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আমাদের এক দফা এক দাবি দুর্নীতি গ্রস্থ এই ভিসির পদত্যাগ।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এমএসসি গণিত বিভাগের ছাত্র মো: আল গালিব। লিখিত বক্তব্যে মো: আল গালিব বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক স্বৈরাচারী ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, যার নৈতিক স্খলন চরম পর্যায়ে। আমরা তার বন্দি জিঞ্জির থেকে মুক্ত হওয়ার আন্দোলন করছি।

তিনি আরও বলেন, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বৈরাচারী কায়দায় ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিন মুক্তমনা শিক্ষক ও সমস্ত শিক্ষার্থীকে দমিয়ে রেখে শিক্ষার পরিবেশ কলুষিত করে যাচ্ছেন। এ কারণে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, গত পাঁচ দিন ধরে বিনা বিরতিতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। এতে সংহতি প্রকাশ করেছে সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজ। এই আন্দোলনে বিঘœ ঘটাতে আমাদের ওপর নির্যাতন ও হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের কোণঠাসা করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ সময় আইন বিভাগের ছাত্র শফিকুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল রাফি, নাহিদ মোল্লা, লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্রী রেহেনুমা তাবাসসুমসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। এ অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গোবরা এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতরা হামলা করে। এতে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওই দিন দুপুরে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবির।
অন্যদিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৬ষ্ঠ দিনের মতো আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাব-সদস্যদেরকেও টহলরত অবস্থায় দেখা গেছে।