শরণখোলায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরীকে ধর্ষণ, মামলা দায়ের

প্রায় ৬ মাস পেছনে ঘুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শরণখোলার এক কিশোরীকে একাধীকবার ধর্ষণ করে তানভীর (১৭) নামের এক কিশোর। দু’জনার প্রেম ও দৈহিক সম্পর্ক যখন গভীরে রুপ নেয় তখন বিয়ে করার জন্য প্রেমিক তানভীরকে চাপ দেয় ওই কিশোরী। তানভীর বিয়ের কথা তার পরিবারকে জানালে পরিবার তাদের বিয়েতে সম্মতি না দিয়ে কিশোরীর কাছ থেকে তানভীরকে দূরে সরিয়ে রাখতে থাকেন। এক পর্যায় ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে গ্রাম্য শালিস ব্যবস্থায় বসেন উভয় পক্ষ। কিন্তু সেই শালিস ব্যবস্থায় কোনো সুরাহা না হলে আবারো বিয়ের জন্য চাপ দেন মেয়ে পক্ষ ।

তবে, তা উপেক্ষা করে ছেলে পক্ষ উল্টো হুমকি ধমকি দিয়ে বিদায় করেন কিশোরী পরিবারকে । এতে সীমাহীন কষ্ট ও ঘৃণা নিয়ে আত্মহত্যার মত পথ বেছে নেন প্রেমিকা কিশোরী। তাই বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিয়ে শরণখোলা হাসপাতালে যান । হাসপাতালে চিকিসার ফলে সে কিছুটা সুস্থ হয় । এঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ।

মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তিন বছর আগে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ওই কিশোরীর (১৫) সাথে পাশাপাশি গ্রাম দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার অহিদুল তালুকদারের ছেলে তানভীর তালুকদার কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর থেকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন প্রেমিকাকে। ঘটনা কিশোরীর পরিবার জানতে পেরে তানভীরের পরিবারকে জানান এবং বিয়ের জন্য বলেন। কিন্তু তানভীরের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে না নিয়ে কৌশলে ছেলেকে মেয়েটির কাছ থেকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর এ নিয়ে গ্রামে শালিস বৈঠক বসলে তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি । সেই কষ্টে কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় । এঘটনায় ছেলের পরিবারের কাউকে পাওয়া না গেলেও তাদের আত্মীয় স্বজন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ।

শরণখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, এতোদিন হয়েগেলো এমন ঘটনা নিয়ে থানায় আসেনি মেয়ের পরিবারের কেউ এখন গ্রামের শালিস ব্যবস্থায় সুরাহা করতে না পেরে থানায় এসেছে । এঘটনায় একটি ধর্ষন মামলা হয়েছে । আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।