বাগেরহাটে ১৩ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত গণশৌচাগার দুই মাসেই নস্ট : নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত গণশৌচাগারটি চালু হওয়ার দুই মাসের মাথায় ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বন্ধ হওয়া গণশৌচাগারটির দূর্গন্ধ এখন দূভোর্গের প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম বাগেরহাট বাস টার্মিনালে আসা মানুষের । নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এই গণশৌচাগারটি নির্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, প্রয়োজনে এই গণশৌচাগারটি মেরামত করে দেয়া হবে।
বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট পৌরসভায় পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালের সেপ্টেমম্বর মাসে বাগেরহাট পৌরসভায় ৫টি গণশৌচাগার নির্মান কাজ শুরু হয়। ৬৩ লাখ টাকা ব্যায়ের নির্মিত এই ৫টি গণশৌচাগারের নির্মান কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। পটুয়াখালী জেলার মেসার্স মাহির উদ্দীন আহম্মেদ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর নির্মান কাজ সম্পন্ন করে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বাগেরহাট পৌর পার্ক এলাকার গণশৌচাগার দুটি জনগনের জন্য খুলে দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের গণশৌচাগারটি ব্যবহানের অনুপোযুক্ত হওয়ায় সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু দূর্গন্ধ থেকে মুক্তি এখনও মেলেনি। নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় গণসৌচাগারটির সেফটি ট্যাংকি ফেটে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
রূপসা-বাগেরহাট মহাসড়কের মিনিবাসের চালক দেলোয়ার হোসেন বলে, গত কয়েকদিন ধরে দূর্গন্ধে এখানে আসা কস্টকর হয়ে পড়েছে। আমাদের বাড়িতেওতো বাথরুম আছে এমন গন্ধতো কখনও দেখিনি। একই কথা বলেন, একটি মিনিবাসের চালকের সহকারী (হেলপার) মোঃ সেলিম।
ঢাকাগামী যাত্রী মহিদুল ইসলাম বলেন, পাবলিক টয়লেট থেকে যে বিশ্রি গন্ধ আসছে তাতে দাড়ানোর সুযোগ নেই এখানে। এবিষয়ে কতৃপক্ষের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ আব্দুল বাকি তালকদার জানান, নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করায় সামান্ন কয়েকদিনেই এর সেফটি ট্যাংকি ফেটে নস্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের নজরদারীর অভাব বলে তিনি দাবী করেন।
বাগেরহাট পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান বলেন, গণশৌচাগারের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাগেরহাট সদর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী শেখ সরফরাজ আলী জানান, গণশৌচাগার নির্মানে কোন অনিয়ম হয়নি। কোন অসুবিধা দেখা দিলে সমাধান করা হবে।