বাগেরহাটে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
বাগেরহাটে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষকরা। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্যে শেখ মনজুরুল হক রাহাদের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামসুল হক আনসারী, বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওঃ মতিউর রহমান, বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মাওঃ আঃ আজিজ শেখ, শিক্ষক নেতা মাওঃ রেজাউল করিম, মাওঃ শরিফুল ইসলাম, মাওঃ মিজানুর রহমান, মাওলানা মোল্লা মুদ্দাসসির আলী, মাওঃ শেখ ফরিদ, মাও: ওবাইদুল্লাহ, মাওঃ মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ আব্দুল্লাহিল ফুয়াদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড দেশের প্রায় ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালু করেন এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু ২০১৩ সালে বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্তির বাইরে থেকে যায় বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, গত ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় এসব মাদ্রাসা জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবির মুখে ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয় এবং অনুদানবিহীন মাদ্রাসাগুলোর জন্য অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে শিক্ষক নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই শিক্ষাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো,
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়ন, চলতি অর্থবছরেই ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার এমপিওভুক্তি কার্যকর করা এবং অনুদানবিহীন মাদ্রাসাগুলোর জন্য ঘোষিত অনুদান বাস্তবায়ন।
শিক্ষক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে।