প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার
দীর্ঘ চার বছর দায়িত্ব পালনকালে বাগেরহাটের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শিক্ষক উদ্বুদ্ধকরণ এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তার দায়িত্বকালীন সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি কার্যত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয় এবং শিক্ষকগণের দীর্ঘদিনের বকেয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে সাবলীল পাঠকের হার প্রায় ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে, যা জেলার শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি নিজ অর্থায়নে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করেন। এছাড়া সাবলীল পাঠ নিশ্চিত করতে নিজ উদ্যোগে প্রায় ১৫০টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার উচ্চারণ চার্ট বিতরণ করেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে বিদ্যালয় ও উপজেলা পর্যায়ে কুইজ ও সাবলীল পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং এসব প্রতিযোগিতায় নিজ অর্থে পুরস্কার প্রদান করেন তিনি।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা। প্রতি ঈদে এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ, প্রতি বছর প্রায় ৫০০ দরিদ্র শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ, খাতা ও কলম প্রদান এবং গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো কার্যক্রম ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের শিষ্টাচার ও নৈতিকতা শিক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রায় শতভাগ শিক্ষকের সন্তানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগও তার দায়িত্বকালকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করেছে।
এ বিষয়ে হারিখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাতুল হাফিজ বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাগেরহাটের প্রাথমিক শিক্ষায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেননি, বরং ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন, যা আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
শ্রীঘাট ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিনা সুলতানা বলেন, “স্যার সবসময় শিক্ষকদের পাশে থেকেছেন। কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সাবলীল পাঠ নিশ্চিত করতে তার উদ্যোগগুলো অত্যন্ত কার্যকর ছিল।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, “বাগেরহাটের শিক্ষক সমাজের আন্তরিক সহযোগিতা না পেলে এ অর্জন সম্ভব হতো না। আমি সবসময় চেয়েছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ুক। ভবিষ্যতেও যেখানেই থাকি, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।”
শিক্ষক ও অভিভাবক মহল মনে করছেন, এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাগেরহাট জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
উল্লেখ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার-এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় । অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বিদায় জানান এবং তার কর্মময় জীবনের সাফল্য ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।