চেয়ারম্যানকে ঘুষ দিতে এনজিও’র ঋণের ফাঁদে ৩ শতাধিক পরিবার

সরকারি ঘরের আশায় চেয়ারম্যানের দাবী পূরণ করতে এনজিও’র কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন হতদরিদ্র রেজাউল ইসলাম। একটা মাথা গোজার ঠাঁই হলে আস্তে আস্তে এনজিও’র টাকা শোধ করার আশা ছিল তার। কিন্তু ঘরের আশায় দু’বছর ঘুরতে হয়েছে চেয়ারম্যানের পিছে। ঘর পাওয়া হয়নি। ততদিনে এনজিও’র ঋণের সুদ বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। এখন এলাকা ছাড়ার মত অবস্থা তার।

রেজাউল ইসলাম খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, ঘর পাওয়ার আশ্বাসে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে ঘর দেওয়া হয়নি। এদিকে টাকা ফেরত চেয়েও পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

তার মত ওই ইউনিয়নের ৩ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ টাকা দিয়ে একদিকে ঘরের আশায় দিন গুনছেন, অন্যদিকে এনজিও’র সুদের টাকার চাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন।

এসব পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় যোগীপোল ইউনিয়নে ১২০ জন গৃহহীনকে প্রতিটি এক লাখ টাকা ব্যায়ে গৃহ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ওই প্রকল্প কমিটির সদস্য হিসেবে যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ঘর নির্মাণ কাজের তত্বাবধায়ন করছেন। অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প শুরুর আগেই তিনি নিজস্ব লোক দিয়ে ৫০০ জন সুবিধাভোগীর তালিকা তৈরী করে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে অগ্রিম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২০ জন ঘর পেয়েছেন। বাকি ৩৮০ জন ঘর না পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ এলাকায় একাধিকবার ঝাড়– মিছিল করেছেন। কয়েকদিন আগে স্থানীয় ইউএনও’র উপস্থিতিতে আলী হাওলাদার নামে এক ভূক্তভোগীর ঘুষের ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
এর আগে ঘুষের টাকা ফেরত পেতে এলাকার দুই শতাধিক মানুষ খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া ঘুষের টাকার ফেরতের দাবীতে সহকারি কমিশনারের (ভূমি) অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয়রা।

ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ঘর পাওয়ার আশায় চেয়ারম্যানের দাবী পূরণ করতে কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে চড়া সূদে টাকা নিয়েছেন। এখন ঘর পাওয়ার আশা ছেড়ে তারা এনজিও’র ঋণ পরিশোধে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নির্বাচনী প্রতিপক্ষ এলাকার কিছু মানুষকে উষ্কানি দিচ্ছেন। তাদের উষ্কানীতে এসব হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি। ইউএনও’র উপস্থিতিতে টাকা ফেরত প্রসংগে তিনি বলেন, একটি ঘর ভেঙে ফেলার ক্ষতি পূরণ বাবদ ইউএনও টাকা ফেরত দিয়েছেন।

দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ বলেন, প্রকল্পটি আমার যোগদানের আগেই শুরু হয়েছে। যোগীপোল ইউনিয়নে এ প্রকল্পের ঘর পাওয়া নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইসরাত জাহান বলেন, যোগীপোল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগগুলি সরকারের তিন বিভাগ থেকে তদন্ত চলছে।