খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যুদের দুই পৃষ্টপোষক গ্রেফতার

খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রাম ৪ নম্বর কয়রা থেকে বনদস্যুদের পৃষ্টপোষকতার অভিযোগে স্থানীয় আ’লীগ নেতার ছেলেসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চাঁদা আদায়ের তালিকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কয়রা সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য এস,এম জিয়াদ আলীর ছেলে মোঃ মোজাফ্ফার সরদার (৩২) ও ৪ নম্বর কয়রা সরকারি পুকুরপাড় এলাকার আব্দুল ওহাব মিস্ত্রির ছেলে নূর হোসেন (৩০)।

র‌্যাব-৬ এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর এএম আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের পৃষ্টপোষকতা করে আসছিল। তারা লোকালয়ে থেকে সুন্দরবনের বনদস্যুদের নিয়ন্ত্রন করতো। বনদস্যুরা স্থানীয় জেলেদের জিম্মি করার পর এ দু’জনের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মুক্তি পেত। তাছাড়া বনদস্যুদের রসদ ও গোলাবারুদ সরবরাহসহ বনদস্যুদের হাত থেকে নিস্কৃতি পেতে স্থানীয় জেলেদের কাছে টাকার বিনিময়ে বিশেষ টোকেন বিক্রি করতো এ দু’জন। গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরে বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদেও কাছ থেকে ১ টি ওয়ান শ্যুটার গান, ৫ রাউন্ড গুলি, চাঁদা আদায়ের টোকেন, বিকাশের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় অস্ত্র ও চাঁদাবাজীর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বনদস্যুদের আরও কয়েকজন পৃষ্টপোষক রয়েছে। অভিযানের পর তার গা ঢাকা দিয়েছে। জেলেরা জানায়, সুন্দরবনে মাছ ব্যবসার আড়ালে অনেকেই বনদস্যুদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে কোন অভিযানের আগেই এরা বনদস্যুদের সতর্ক করে দেন। কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের এক মাছ ব্যবসায়ি নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের সহযোগীতা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তাকে একাধিকববার গ্রেফতার করা হলেও অজানা কারনে সে ছাড়া পেয়ে যায়। জেলেদের দাবী তাকে গ্রেফতার করলে সুন্দরবনের এ অঞ্চলের দস্যুতাবৃত্তি অনেকাংশে কমে যাবে।