বুধবার, ২২ জুন ২০২২, ০১:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বা‌গেরহা‌টে জেলা প্রশাস‌নের সা‌থে সরকারী বিদ‌্যাল‌য়ের অ‌ভিভাবক‌দের মত‌বি‌নিময় বাগেরহাট সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক পরিষদের কমিটি গঠন বাগেরহাটে পরিবার পরিকল্পনা সেবার মান উন্নয়নে ওয়ার্কিং কমিটির সভা বাগেরহাটে মহানবী (সাঃ)কে কটুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ব্ল্যাকমেইল করে দেড় মাস ধর্ষণ, অভিযুক্তকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করল দশম শ্রেণির ছাত্রী! নবী মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তি করায় বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার বাগেরহাটে ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে জেলা আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল তথ্য অধিকার আইনের সুফল পাচ্ছে না বাগেরহাটের মানুষ বাগেরহাটের যাত্রাপুর ইউনিয়নে উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত




তথ্য অধিকার আইনের সুফল পাচ্ছে না বাগেরহাটের মানুষ

এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট
  • প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মে, ২০২২

বাগেরহাট জেলা সদরে কর্মরত একজন সংবাদকর্মী বিগত এক বছরে কতটি টেন্ডার নোটিশ বের হয়েছে এই বিষয়ে জানার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন পত্র জমা দিতে যান। কিন্তু তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে তিনি কোন তথ্য দিতে পারবে না, তাই তিনি এটি গ্রহন করবেন না। নিরুপায় হয়ে ওই সংবাদকর্মী খুলনা বিভাগীয় তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে ফোন করেন। তিনি সবকিছু শুনে বলেন, এটিতো ওনার গ্রহন করার কথা। কিন্তু কেন গ্রহন করছেন না? নানা কথার পর ওই সংবাদকর্মী আবেদনের কপিটি ওই অফিসে জমা দিতে পারেন নি। আর খুলনা বিভাগীয় অফিসের সেই তত্ত¡বধায়ক প্রকৌশলীও গ্রহন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন নি। একই সাথে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দুরের বিভাগীয় শহরে গিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্রটি জমা দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ওই সংবাদকর্মী। এইভাবে নানা জটিলতায় তথ্য অধিকার আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার মানুষ।

 

তাছাড়া প্রয়োজনীয় প্রচারণার অভাবসহ নানা কারনে সাধারন মানুষ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। কি জন্য, কিভাবে, কার কাছে আবেদন করতে হবে এবং এতে কি সুফল তিনি পাবেন এমন কোন বিষয়ে তাদের কিছুই জানা নেই।
বাগেরহাট আদালত চত্ত¡রে কথা হয় শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের ছগির মাঝির সাথে। তিনি বলেন, আমি গ্রামের মানুষ। আমি এইসব তথ্য অধিকার আইন সম্পকেই কিছু জানি না। আইনতো জানবে উকিলরা।

রামপালের শোনাতুনিয়া গ্রামের মিজান ঢালী বলেন, তথ্য অধিকার নামে কোন আইন আছে এটা তিনি কোন দিনই শোনেন নি। আর এর কাজই বা কি সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

বাগেরহাট জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারী দপ্তরগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দপ্তরে কোন তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা নেই। যেসব অফিসে তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মনোনীত নেই, সেই সব অফিসে পদাধিকার বলে ওই অফিস প্রধান তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমনটা দাবী করা হলেও বাস্তবে তেমনটা দেখা যায়নি।

আর কিছু দপ্তরে নামমাত্র তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া থাকলেও এই ১৩ বছরে একটিও আবেদনপত্র জমা পড়েনি।

বাগেরহাট জেলা সদরের সরকারী অফিসগুলির মধ্যে জেলা বাগেরহাট প্রশাসকের কার্যালয়ে গত ১৩ বছরে মাত্র ১১০টি এবং বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরে ১৩ বছরে ১৫টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এই দুটি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন এই পর্যন্ত সবগুলো আবেদন নিস্পত্তি হয়েছে। অন্য কোন দপ্তরে একটিও আবেদন জমা পড়ে নি।

বাগেরহাট পরিবেশ অধিদপ্তরে উপ-পরিচারক মোঃ আরেফিন বাদল বলেন, তথ্য অধিকার আইনে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়ে এই পর্যন্ত ১৫টি আবেদন পড়েছে। যার সবগুলি নিস্পত্তি করা হয়েছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) ও জেলা প্রশাসেনের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম জানান, গত এক বছরে ৫টিসহ এই পর্যন্ত মোট ১১০ জন ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়ে তথ্য অথিকার আইনে আবেদন করেছেন। যেসব বিষয়ে তথ্য দেয়া সম্ভব হয়েছে তাদের তথ্য দেয়া হয়েছে। আর যাদের দেয়া সম্ভব হয়নি তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার তথ্য কমিশনে আপিল করেছেন। তথ্য কমিশনের আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তবে এই আবেদন কম জমা হওয়া বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচার প্রচারণা ও জন সচেতনার অভাব এবং জটিল প্রক্রীয়ার কারনে এমনটা হয়েছে।

এবিষয়ে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নীহার রঞ্জন সাহা বলেন, তথ্য অধিকার আইনটি হচ্ছে জনগনের আইন। ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইন জনগণের সকল সরকারী ও উল্লেখিত বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যে প্রবেশের দ্বার উন্মোচিত করেছে। কিন্তু তথ্য অধিকার আইন সর্ম্পকে অধিকাংশ মানুষ জানে না। আর যারা জানে তাদেরও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই বলে এই আইনের সুফল তারা পাচ্ছে না। গত ১৩ বছরে বাগেরহাটে মাত্র ১২৫টি আবেদন জমা পড়েছে এটা জনসংখ্যার তুলনায় খুবই নগন্য।

অপরদিকে বিভিন্ন দপ্তরে নিযুক্ত তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদেরও আন্তরিকতার অনেক অভাব রয়েছে। তাদের সহযোগীতা খুবই প্রয়োজন।

একই সাথে এই আইনে কিছু জটিলতা রয়েছে। তথ্য কমিশনের আপিল করতে হলে ঢাকাতে করতে হবে। সময় ও অর্থ নস্ট করে সবাই এটাতে আগ্রহী হবে না।

তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের সুফল জনগনের দ্বারপ্রান্তে পৌছাতে হলে প্রয়োজন ব্যপক প্রচারণা। তা ছাড়া তথ্য অধিকার আইনকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সাথে তথ্য কমিশন নয়, জেলা পর্যায়ে একজন কর্মকর্তাতে নিয়োগ দিতে হবে যিনি জেলার সকল আপিল নিস্পত্তি করতে পারবেন। ফলে তথ্য গ্রহিতার হয়রানী কমবে বলে মনে করেন প্রবীন এই সাংবাদিক নেতা।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়।

image_pdfimage_print




সংবাদটি ভাল লাগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো সংবাদ










© All rights reserved © 2019 notunbarta24.com
Developed by notunbarta24.Com
themebazarnotunbar8765